মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ

*** ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার ঘোষণা *** গবেষণা ও জনমত যাচাই ছাড়া পুলিশের পোশাক পরিবর্তন পুনর্বিবেচনার আহ্বান *** আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ‘রাজসাক্ষী’ বানিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ *** ‘চেতনা পরিপন্থি হলে তো সংবিধান পরিপন্থি হয় না’ *** নিজের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ডিঅ্যাকটিভেট করলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব *** রাষ্ট্রপতিকে রক্ষায় বিএনপি কেন অনড় ছিল, দলটির বিষয়ে কি বলছেন তিনি? *** ‘বিএনপির শক্ত অবস্থানের কারণেই সাহাবুদ্দিন থেকে গেছেন বঙ্গভবনে’ *** সদ্য সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ৯ হাজার কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ *** বিদ্যুতে বকেয়া ৪৫ হাজার কোটি টাকা, মন্ত্রী বলছেন—দেউলিয়া পরিস্থিতি *** ১২ই মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি

ভারত থেকে আসছে মহিষের সেদ্ধ মাংস, বাজারে চাহিদা ব্যাপক

নিউজ ডেস্ক

🕒 প্রকাশ: ০২:২৩ অপরাহ্ন, ৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৩

#

ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে মহিষের সেদ্ধ মাংস বিক্রির বাহারি বিজ্ঞাপন ঘুরছে। কেনা যাচ্ছে পানির দরে! অনলাইনে চাহিদার কথা জানালে মাংস পৌঁছে যাচ্ছে রেস্তোরাঁর দুয়ারে কিংবা ক্রেতার ঘরে। লবণ-হলুদের মিশেলে সেদ্ধ এসব মহিষের মাংস কৌশলে পাশের দেশ ভারত থেকে আনছেন আমদানিকারকরা। হিমায়িত মাংস আমদানিতে কড়াকড়ি থাকলেও এটি দেশে ঢুকছে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের নামে।

এই সেদ্ধ মাংস এমনই জাদুকরী, এক কেজি রান্না করলে ফুলেফেঁপে হয়ে যায় তিন কেজি। এ কারণে কেজি ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকায় নেওয়া হলেও আদতে দাম পড়ে মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। দেশের বাজারে এখন কাঁচা মহিষের মাংসের কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এ কারণে সারাদেশের রেস্তোরাঁ মালিকরা এই সেদ্ধ মাংস কিনতে ব্যাপক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রক্রিয়াজাত মাংসে বেশি পরিমাণে লবণ এবং কিছু রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হয়। এসব কারণে শরীরে নানা রোগব্যাধি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

গরুর মাংস উদ্বৃত্ত থাকার পরও দেশে হিমায়িত মহিষের মাংস বৈধ-অবৈধ পথে আসছিল টনে টনে। স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রান্তিক খামারিদের কথা চিন্তা করে সরকার গত বছর থেকে হিমায়িত মাংস আমদানিতে কঠোর হয়। এখন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া মহিষের মাংস আমদানি করা যাচ্ছে না। আর এই সুযোগে একটি চক্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের নামে সেদ্ধ মহিষের মাংস প্যাকেট করে সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

দেশে মাংসের উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দামও। গরুর মাংস সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। আর এ জন্য সংশ্লিষ্টরা দায়ী করেছেন সিন্ডিকেটকে। খামারি ও ব্যবসায়ীরা মাংসের দর নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি জানালেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ পরিস্থিতিতে দেশে ফের হিমায়িত মহিষের মাংস আমদানির পাঁয়তারা চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরুর মাংস আমদানি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রান্তিক খামারিরা। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ধস নামার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়বে। এ জন্য যৌক্তিক দর নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে ফেসবুকে মেলে কয়েকটি পেজ। তেমনই একটি ‘আমজাদ বাজার অনলাইন শপ’। মহিষের সেদ্ধ মাংসের একটি ভিডিও দিয়ে তারা লিখেছে, ‘সেদ্ধ করা মহিষের মাংস ঢাকা সিটিতে হোম ডেলিভারি এবং সারাদেশে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হয়।’ যোগাযোগের জন্য দেওয়া মোবাইল নম্বরে রেস্তোরাঁ মালিক পরিচয়ে ফোন দেওয়া হলে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দীন রোডের এজাজ আহমেদ বলেন, ‘ইন্ডিয়া থেকে মহিষের মাংস আগে কাঁচা আসত। এখন আর সেভাবে আনতে দিচ্ছে না। এ কারণে হাড় ছাড়া মহিষের মাংস ছোট ছোট টুকরো করে প্রথমে লবণ ও হলুদ মিশিয়ে সেদ্ধ করা হয়। পরে শুকিয়ে প্যাকেট করে এখানে পাঠানো হয়। গরম করার কারণে মাংসের ভেতরে রস পুরোপুরি বের হয়ে যায়। এক কেজি মাংস হোটেলে রান্না করলে তিন কেজির সমান হয়। আমাদের এখন পাঁচ টন মাংস মজুত আছে। যে হোটেল মালিক একবার এ মাংস নেন, অনেক লাভ হওয়ায় তিনি আর বাজারের কাঁচা মাংস কেনেন না।’

তবে আমজাদ বাজার অনলাইন শপের ফেসবুক পেজে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা গেছে, অপরিচ্ছন্ন একটি কক্ষে থরে থরে সাজানো মাংসের প্যাকেট। সাদামাটা পলিথিনে রাখা মাংসের মেয়াদ লেখা ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি।

রাজধানীর নিউমার্কেটের হোটেল মালিক জাফরুল্লাহ বলেন, ‘প্যাকেট করা সেদ্ধ মাংস নিয়মিত অনলাইন থেকে কেনা হয়। রান্না করার পর এটা ফুলে ওঠে, লাভও বাম্পার।’

কারওয়ান বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী নাহিদ বলেন, ‘একসময় কাঁচা হিমায়িত মাংস কিনে রান্না করতাম। এখন সেই মাংস পাওয়া যায় না। কয়েক মাস ধরে সেদ্ধ মাংস কিনছি। কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় কিনছি। কেটে ছোট করে রান্না করার পর তিন কেজির মতো হয়ে যায়।’

আই. কে. জে/ 

ভারতীয় মহিষের সেদ্ধ মাংস

সুখবর এর নিউজ পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

খবরটি শেয়ার করুন

Footer Up 970x250